মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বর্ণবাদের সম্মুখীন হন। বাধ্য হয়ে তিনি ভারতবর্ষে ফেরত আসেন। তিনি ছিলেন অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রবক্তা। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব প্রদান করেন। অপার নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে তিনি স্বাধীন ভারতের অভ্যুদয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্যের দিকটি হলো অধিকার আদায়ে সংগ্রামী চেতনা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দান।
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। যুগে যুগে কালে কালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় যোগ্য নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁরা স্বজাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। জাতির হৃদয়ে তাঁরা চির অমর।
উদ্দীপকে ভারতের অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রবক্তা মহাত্মা গান্ধীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি ব্রিটিশ সরকারের নানা অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর এ অবদান 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও মহাত্মা গান্ধীর মতো জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাগিয়ে তুলে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলার মানুষ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের সর্বস্তরের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন করেছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্যের দিকটি হলো অধিকার আদায়ে সংগ্রামী চেতনা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দান।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?